অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচার: সিআইডির অভিযানে আরও দুই সদস্য গ্রেপ্তার - Mati News
Tuesday, October 6

অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচার: সিআইডির অভিযানে আরও দুই সদস্য গ্রেপ্তার

বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার রাজশাহী ও ঝিনাইদহে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চক্রটির মোট ১০ জন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হলো। বৃহস্পতিবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করতেন। এসব এজেন্টের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ ও উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো। সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সৈয়দ জামান রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যদের সিম সংগ্রহ করে জুয়ার ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন। অন্যদিকে, রুহুল কুদ্দুস জুয়া সাইটের অর্থ লেনদেন ও উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ছিলেন।

এর আগে গত ৭ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও নড়াইলে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮), মো. জুয়েল রানা (৩২), মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩), আবু জোবায়ের সানি (৩৬), মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮)।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সিপিসির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। চক্রটির সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং সাইটের মূল পরিচালনাকারী, এজেন্ট এবং অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবের মালিকদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।

সিআইডি সাধারণ জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত তাদের অবহিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *