মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি পরিচালনা করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এরপর ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেয়া হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় মামলার নথি ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষ হলেও ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত দিনে তা হয়নি, অবশেষে সোমবার হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হলেও ওইদিন রায় ঘোষণা না করে সোমবার দিন ধার্য করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রমজানের ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—কে খালাস দেন আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তী সময়ে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।













