প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে - Mati News
Thursday, August 27

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার দায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাজা পরোয়ানা জারি ছিল। বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয় এবং বিকেল চারটার দিকে মামলার শুনানি শুরু হয়।

আদালতে জামিন শুনানি ও যুক্তিতর্ক

  • আসামিপক্ষ: বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান জামিন আবেদন করে দাবি করেন, আসামি এই মামলার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি নির্দোষ এবং তাঁর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, যার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
  • রাষ্ট্রপক্ষ: সরকারি কৌঁসুলি সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।
  • বাদীপক্ষ: আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ অভিযোগ করেন, আসামি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রতারণা করেছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিদিশার আইনজীবী জানিয়েছেন, এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বাদী বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে গিয়ে বিদিশার বন্ধু আবদুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দেন।

চুক্তি অনুযায়ী ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ৭২ লাখ টাকার চেকটি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। বাদীর অভিযোগ, টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিদিশা তাঁকে জানিয়েছিলেন, এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমরা জামিন চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসামি এই মামলা সম্পর্কে জানতেন না।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য আপিলের শর্তে আসামির জামিন পাওয়ার হকদার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *