কেন ২৩ আগস্ট পালন করা হয় ইন্টারনেট দিবস? জেনে নিন এর পেছনের ইতিহাস - Mati News
Tuesday, August 25

কেন ২৩ আগস্ট পালন করা হয় ইন্টারনেট দিবস? জেনে নিন এর পেছনের ইতিহাস

বর্তমান বিশ্বের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের যে অবিচ্ছেদ্য অংশ ইন্টারনেট, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল অত্যন্ত নীরবে। প্রতিবছর ২৩ আগস্ট দিনটি ইন্টারনেট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটি মূলত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লির যুগান্তকারী উদ্ভাবনের প্রতি সম্মান জানাতেই নির্ধারিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট তিনি সুইজারল্যান্ডের সার্ন (CERN) থেকে তার উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্পটি বিশ্ববাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে তথ্যের আদান-প্রদানকে সহজতর করে তোলে।

টিম বার্নার্স-লি ১৯৮৯ সালের ১২ মার্চ প্রথম এই ওয়েবের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। তার সেই উদ্ভাবনের ফলে ওয়েবসাইট তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা ইন্টারনেটের ব্যবহারকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তোলে। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বের প্রথম সেই ওয়েবসাইটের লিংকটি (http://info.cern.ch/) আজও সচল রয়েছে। এরপর ১৯৯৩ সালে সার্ন কর্তৃপক্ষ ওয়েব ব্যবহারের প্রযুক্তিটি সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করে দেয়, যা ইন্টারনেটের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখে।

ইন্টারনেট ও ওয়েবের অগ্রযাত্রায় ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিনের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। টিম বার্নার্স-লি নিজেই প্রথম ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করেছিলেন, যা নেক্সটস্টেপ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহৃত হতো। গুগলের অনেক আগে ১৯৯০ সালে অ্যালান এমটেজ প্রথম সার্চ ইঞ্জিন ‘আর্চি’ (Archie) চালু করেন, যা তিনি মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তৈরি করেছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূচনালগ্নে ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ‘সিক্সডিগ্রিস ডটকম’ (SixDegrees.com) আত্মপ্রকাশ করে। এই প্ল্যাটফর্মেই প্রথমবারের মতো বাস্তব নামের প্রোফাইল ও ফ্রেন্ডলিস্ট তৈরির সুবিধা ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ফ্রেন্ডস্টার, মাইস্পেস ও ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর পথ প্রশস্ত করে।

টেলিফোনিকার মতে, প্রথম ওয়েবসাইটটি চালুর সময় টিম বার্নার্স-লি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য কতটা বড় বিপ্লব বয়ে আনবে। আজ এটি আধুনিক জীবনের সবচেয়ে অপরিহার্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গবেষক জনি ওয়ালফিজের মতে, ‘ইন্টারনেট’ শব্দটি মূলত ইন্টারনেট ও অ্যাস্ট্রোনটের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে। সার্নের সেই ছোট পদক্ষেপটি আজ বিশ্বজুড়ে তথ্য আদান-প্রদানের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যার সুফল ভোগ করছে পুরো মানবজাতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইন্টারনেট আগে থেকেই বিভিন্ন কম্পিউটার যুক্ত করার কাজ করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম ওয়েবসাইটের লিংক এখনো চালু আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আধুনিক জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *