ইরানের অর্থনীতি অচল করতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: কতটা সফল হবে এই যুদ্ধ? - Mati News
Friday, August 21

ইরানের অর্থনীতি অচল করতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: কতটা সফল হবে এই যুদ্ধ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক যুদ্ধকৌশল ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে ট্রাম্পের অতীত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপ ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামলাতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা হলো, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা সংস্থা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থা ইরানকে কোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি গঠন এবং জাহাজের নিবন্ধনের মতো সব অবৈধ পথ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের প্রাক্তন ইরান বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান ভেঙে পড়বে—এমনটি মনে করা হবে বড় ধরনের ভুল। তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে যে কৌশল অবলম্বন করছে, তাতে কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ নেই। এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করেও ইরান তাদের মূল রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্যের পাশাপাশি বড় ধরনের কূটনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুডের মতে, ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা জরুরি। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজস্ব ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে তেহরান পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই কৌশলের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি এমন কোনো ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আগ্রহী নন, যার চূড়ান্ত মূল্য মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন বা মুদি দোকানে দিতে হয়। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আনবে, নাকি রাজনৈতিক চাপে তিনি পিছু হটবেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *