নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৬০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ বহু পর্যটক - Mati News
Thursday, August 27

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৬০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ বহু পর্যটক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৬০ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশের পর্যটক। বুধবার তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক এই বন্যার ফলে রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা মাটি ও পাথরের তোড়ে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক বসতি পুরোপুরি ভেসে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ৩৮৪ জনের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক। তালিকায় মোট ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়কেও (এনআরআই) নিখোঁজের তালিকায় রাখা হয়েছে। পর্যটন বোর্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সমন্বয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্তদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, বৃটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও রয়েছেন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের প্রভাবে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ওই অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের ফলে বড় ধরনের ভূমিধস হয়ে নদীর প্রবাহ আটকে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ বন্যার রূপ নেয়। এছাড়া তিব্বতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ভোতে কোশি নদীতে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

তিব্বতের চীনা ভূখণ্ডের শাইলং থেকে নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোটের ত্রিশূলী পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। বন্যায় নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে ২৬০ বছরের পুরোনো বাণিজ্যপথটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ত্রিশূলী নদীর ওপর অন্তত ছয়টি সেতু ভেসে যাওয়ায় চিতওয়ান ও পোখারার মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ত্রিভুবন ত্রিশূলা হাইস্কুলসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বন্যায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা নেপালের মোট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশেরও বেশি। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র গিয়েরং বন্দরেও কাদাধসের প্রভাব পড়েছে, যেখানে সড়ক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে, তবে নদীর পানির উচ্চতা ও দুর্গম এলাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নেপাল সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসক দল ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রাসুয়া এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত বন্যার মূল কারণ নয়। কর্মকর্তারা এখন হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ ফেটে যাওয়া কিংবা ভূমিধসে নদীর প্রবাহ বন্ধ হওয়ার মতো সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধসে নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৬০। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাথমিকভাবে যেখানে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, হতাহতের বিষয়ে কিছু অপ্রমাণিত খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মধ্যে অনেকেই তিব্বতে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর তিব্বত-চীন সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *