হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের বিপরীতে ১৫ বছরের বিশেষ ছাড় দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক - Mati News
Tuesday, September 22

হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের বিপরীতে ১৫ বছরের বিশেষ ছাড় দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন করে বড় ধরনের নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার নং-৩০ জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, তারা বিশেষ পুনঃতফসিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত সময় পাবে। এই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ১ হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই বহাল থাকবে।

এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, শুধুমাত্র নতুন আবেদনকারীরাই নয়, যারা আগে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ বা নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন এই বাড়তি সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আগে নেওয়া গ্রেস পিরিয়ডের সময় নতুন করে গণনা করা হবে না; বরং অতিক্রান্ত সময় নতুন মেয়াদের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আসবে এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে। তবে সব ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই সার্কুলারের আওতায় জমা হওয়া সব আবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আগে দেওয়া নীতি সহায়তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ পেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহের চাপ কমবে এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা ও খেলাপি ঋণ আদায়ের হার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বারবার এমন বিশেষ ছাড়ের ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আদায় কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি পরিশোধ শুরুর আগে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর সময় দিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *