জার্মানির কৃষিযন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাস’-এর পূর্ব চীনের শানতোং প্রদেশে অবস্থিত কারখানায় তৈরি কিছু কৃষিযন্ত্র ইউরোপে পাঠানো হয়। এর ফলে কারখানাটি প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক উৎপাদন নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
কাওমি সিটিতে অবস্থিত কারখানাটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু রয়েছে। এখানে উৎপাদনের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। কারখানাটি চীনের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বাজারের জন্য কৃষিযন্ত্র তৈরি করে। পাশাপাশি ক্লাস-এর অন্যান্য কারখানাকেও উৎপাদনসংক্রান্ত সেবা দেয়।
ক্লাস-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট থমাস স্পায়েরিং বলেন, ‘রপ্তানি আমাদের চীনা গ্রাহকদের জন্য তৈরি পণ্যের মান উন্নত করতে সহায়তা করে।‘ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের গুণগত শর্ত পূরণ করাও প্রতিষ্ঠানটিকে উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে সহায়তা করে।‘
উত্তর চীনের থিয়ানচিন মিউনিসিপালিটিতে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চীনা আন্তর্জাতিক কৃষি যন্ত্রাংশ প্রদর্শনী (সিআইএএমই) ২০২৬-এ অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মধ্যে ছিলেন থমাস স্পিয়েরিং। এ আয়োজনে চীন ও বিদেশের ৩ হাজারের বেশি প্রদর্শক অংশ নেন।
কৃষিযন্ত্রের বড় বাজার চীন। কৃষি ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ফসলের জমি চাষ, বপন ও ফসল কাটার ক্ষেত্রে সামগ্রিক যান্ত্রিকীকরণের হার ৭৬.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিযন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জন ডিরি গত ৫০ বছর ধরে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনের খামারগুলোর উপযোগী করে বিশেষভাবে নকশা করা নতুন মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। এসব যন্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হবে। নির্ভুল কৃষিকাজ, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদনের ওপর এতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসা করছেন এমন বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও দেশটির উৎপাদন সক্ষমতার পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চীনে তৈরি কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশও ক্রমেই বেশি সংখ্যায় বিদেশি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
চীনের যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চেম্বারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে চীনের কৃষিযন্ত্র, সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৯৫ শতাংশ বেড়ে ১৫.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিযন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এজিসিও করপোরেশনের বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক নিকোলাস মিউনিয়ার জানান, থিয়ানচিনে প্রদর্শিত প্রযুক্তি এবং চীনের নতুন প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত উত্থান তাকে মুগ্ধ করেছে।
সূত্র: সিএমজি




















