সেপ্টেম্বর ২৯: সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ফিলিপাইনের বক্তব্যের জবাবে চীন তার বক্তব্য তুলে ধরে। এ সময় ফিলিপাইনকে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে বহুপাক্ষিকভাবে বিষয়টির উত্থাপন বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানায় চীন।
জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ উপযুক্ত জায়গা নয়—চীন বরাবরই এই অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ফিলিপাইনের ভ্রান্ত দাবির বিরুদ্ধে চীনকে দৃঢ়ভাবে জবাব দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলা’ বিষয়ে চীনের অবস্থান সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক। ফিলিপাইনের একতরফাভাবে তথাকথিত সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করা ‘রাষ্ট্রের সম্মতি’ এবং ‘চুক্তি অবশ্যই পালন করতে হবে’-এর মতো আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী।
সুন লেই বলেন, তথাকথিত সালিশি ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে একটি অন্যায্য রায় দিয়েছে। ওই রায় অবৈধ ও অকার্যকর। এটি কনভেনশনের মূলনীতি ও চেতনাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের কর্তৃত্ব ও অখণ্ডতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, চীন ওই রায় গ্রহণ বা স্বীকৃতি দেয় না এবং এর ভিত্তিতে করা যেকোনো দাবি বা পদক্ষেপের বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করে। চীনের এই অবস্থান শুধু নিজস্ব ভূখণ্ডগত ও সামুদ্রিক অধিকার রক্ষার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং ন্যায্য ও যুক্তিসংগত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্যও।
সুন লেই আরও বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলা’ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। ফিলিপাইন যতই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করুক, এর অবৈধ, অকার্যকর, সীমা লঙ্ঘনকারী এবং প্রতিক্রিয়াশীল প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা যাবে না।
তিনি বলেন, ফিলিপাইনকে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে বহুপাক্ষিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানায় চীন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষায় চীনের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান সুন লেই।
সূত্র: সিএমজি


















