
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্বের অবসান ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারবিষয়ক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
ফু ছোং বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। ভূরাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, দেখা দিচ্ছে একের পর এক সংকট। এ অবস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের কাছ থেকে আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদকে তার প্রধান দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানাচ্ছে তারা।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসংগত সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্ব ও কার্যকারিতা বাড়ানো, বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করা এবং জাতিসংঘ সনদে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলার পক্ষে চীন।
ফু ছোং আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রথমেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের গুরুত্ব বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আন্তর্জাতিক যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণকারী ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আরও সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিদ্যমান ভারসাম্যহীনতা দূর করা, কোনো একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি প্রাধান্য কমানো এবং উন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্বের অবসান ঘটানো।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্যকে সম্মান জানানো এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ফু ছোং। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার একটি জটিল ও সামগ্রিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে পাঁচটি প্রধান আলোচ্য বিভাগের সব বিষয় জড়িত।
তিনি বলেন, সব পক্ষের মধ্যে সুস্পষ্ট ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগেই তাড়াহুড়ো করে একটি নির্দিষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়া হলে মতপার্থক্য ও বিরোধ আরও বাড়তে পারে। এটি জাতিসংঘের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কিংবা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন স্বার্থের জন্য সহায়ক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আন্তঃসরকারি আলোচনাকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান ফু ছোং। তার মতে, এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আলোচনার জন্য আন্তঃসরকারি আলোচনাই একমাত্র বৈধ মঞ্চ। চীন এই মঞ্চে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে, এর বাইরে পৃথক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার বিরোধিতাও করে চীন।
ফু ছোং আশা প্রকাশ করেন, আন্তঃসরকারি আলোচনার বর্তমান পর্বে নতুন সংস্কার-ধারণাগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে, বিভিন্ন পক্ষের অভিজ্ঞতা ও মতামত একত্র করা হবে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যাপক সমর্থন পেতে পারে—এমন সংস্কারপন্থা সক্রিয়ভাবে খুঁজে বের করা হবে।
সূত্র: সিএমজি

















