বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-ইইউ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক পরামর্শ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনব্যাপী বৈঠকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনথাও এবং ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার মারোস শেফচোভিচ আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ভারসাম্য, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারসহ ১৬টি বিষয়ে সমঝোতা হয়।
দুই পক্ষই জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তারা ডব্লিউটিওর কাঠামোর মধ্যে নিজেদের মতপার্থক্য সমাধানের চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ করতে কাজ করবে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডব্লিউটিওর নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ইইউর ভর্তুকিবিরোধী তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল্য নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি ও পর্যালোচনা পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলবে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দুই পক্ষ বিশ্বব্যাপী শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছে। চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিরল মৃত্তিকা ধাতু ও স্থায়ী চুম্বক রপ্তানির লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু রাখবে। অন্যদিকে, দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করতে ইইউ সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে। পণ্য তালিকাভুক্ত করা ও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতেও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ জানিয়েছে, এ-সংক্রান্ত কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতিও হয়েছে। চীন-ইইউ মেধাস্বত্ববিষয়ক কর্মদলের মাধ্যমে এই অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, এই পরামর্শ প্রক্রিয়ার তৃতীয় বৈঠক ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রী পর্যায়ে ভিডিও বৈঠক করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।
সূত্র: সিএমজি





















