মিসর ও চীনের প্রত্নতাত্ত্বিকদের খনন, লুক্সোরে প্রাচীন ভাস্কর্যচিত্রের সন্ধান - Mati News
Friday, September 18

মিসর ও চীনের প্রত্নতাত্ত্বিকদের খনন, লুক্সোরে প্রাচীন ভাস্কর্যচিত্রের সন্ধান

দক্ষিণ মিসরের লুক্সোরের কার্নাক টেম্পল কমপ্লেক্সে নীল নদের বার্ষিক বন্যা-সংশ্লিষ্ট দেবতা হাপি’র একটি প্রাচীন ভাস্কর্যচিত্রের সন্ধান মিলেছে। মিসরীয় ও চীনা প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানে যৌথ খননকাজ পরিচালনা করছেন।

অপ্রত্যাশিতভাবে প্রাচীন ধাঁচের শিল্পরীতিতে তৈরি এই ভাস্কর্যচিত্রটি ২,৫০০ বছরেরও বেশি আগে মিসরের ধর্মীয় ও শিল্পজগত সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। দলটি ওই মন্দিরের মোতু প্রাঙ্গণে আগে নথিভুক্ত না হওয়া একটি পবিত্র জলাধার, এক পবিত্র নারী দেবীর ভাস্কর্যচিত্র এবং লিপিযুক্ত পাথরের খণ্ডও আবিষ্কারের কথা জানিয়েছে।

২০১৮ সালে এই যৌথ সহযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকে দলটি পাতালজগতের শাসক ওসিরিসের উদ্দেশ্যে নির্মিত পাঁচটি চ্যাপেলের সম্পূর্ণ স্থাপত্য বিন্যাস উন্মোচন করেছে।

সম্প্রতি খনন করা পঞ্চম চ্যাপেলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধসে পড়া পাথরের খণ্ডগুলো পুনরায় সাজিয়ে একটি দেয়াল তৈরি করেন। সেখানে হাপির ভাস্কর্যচিত্র পাওয়া যায়। এতে হাপিকে যমজ দুটি অবয়বে দেখানো হয়েছে, যারা মন্দিরের প্রবেশপথের দিকে নৈবেদ্য বহন করছে।

চায়নিজ অ্যাকাডেমি অব স্কুল সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রির সহযোগী গবেষক ওয়েন চিং বলেন, ‘তারা নৈবেদ্য বহন করছে এবং মন্দিরের প্রবেশপথের দিকে মুখ করে আছে। বামপাশে একটি জোড়া এবং ডান পাশেও আরেকটি জোড়া রয়েছে। প্রত্যেকেই নৈবেদ্য নিবেদনের জন্য সেখানে অবস্থান করছে। প্রতিটি হাপির সামনে একটি শিলালিপি রয়েছে, যেখানে কী নৈবেদ্য দেওয়া হচ্ছে তা উল্লেখ করা হয়েছে’।

প্রাচীন মিসরীয়দের কাছে নীল নদের বার্ষিক বন্যা পানি এনে দিত এবং মাঠজুড়ে উর্বর পলি জমা করত। এর ফলে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারতেন। এই প্রাচুর্যের সঙ্গে যুক্ত হাপি হয়ে ওঠেন খাদ্য ও জীবনের প্রতীক।

ওসিরিসের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি চ্যাপেলে হাপির উপস্থিতি অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। তবে প্রাচীন মিসরের মন্দিরগুলো কেবল একটি দেবতার জন্য নির্ধারিত ছিল না। বিভিন্ন দেবতাকে প্রায়ই একই স্থানে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হতো এবং তাদের ভূমিকা ও পরিচয়ের মধ্যে মিলও ছিল।

পঞ্চম চ্যাপেলটি ২৫তম ও ২৬তম রাজবংশের সময়, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭৪৭ থেকে ৫২৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।

খ্রিস্টপূর্ব ৩০৫ থেকে ৩০ সাল পর্যন্ত মিসরের শেষ প্রাচীন রাজবংশ টলেমেইক যুগজুড়েও মন্দিরের দেয়ালে হাপির উপস্থিতি দেখা গেছে। নতুন আবিষ্কৃত ভাস্কর্যচিত্রগুলো এমন এক দেবতার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার আরও একটি প্রমাণ দিচ্ছে, যার প্রতিচ্ছবি নীল নদ এবং সেই নদীর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা সভ্যতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *