মেলবোর্নে চীন-অস্ট্রেলিয়ার তারুণ্যে মেলা, বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন - Mati News
Friday, September 18

মেলবোর্নে চীন-অস্ট্রেলিয়ার তারুণ্যে মেলা, বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন

দুপুরের বিরতি চলছে। মেলবোর্ন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পেরোলেই রয়েছে জিলং কলেজ। সেখানে ঐতিহ্যবাহী চীনা পোশাক পরা কয়েকজন ছাত্রী তাদের ঐতিহাসিক ক্যাম্পাসে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। আর শিক্ষার্থীরা মরিসন হলের ভেতরে চীনা ক্যালিগ্রাফি, কাগজের লণ্ঠন তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী পুঁতির কারুশিল্পে নিজেদের হাত পাকাচ্ছিলেন।

দুপুর ২টার দিকে হলটি শিক্ষার্থীদের ভিড়ে পূর্ণ হতে শুরু করে। ঐতিহ্যবাহী চীনা পোশাক পরা ছাত্রীরা মঞ্চে উঠতেই মেলবোর্নে চীনা কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে আয়োজিত চীনা সংস্কৃতি দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ঐতিহ্যবাহী চীনা অপেরার নারী যোদ্ধা চরিত্র তাওমাতানের পোশাক পরা তিনজন শিল্পী মঞ্চজুড়ে লম্বা বর্শা নিয়ে নানা কসরত প্রদর্শন করেন। একজন শিল্পী হাতের মুদ্রার কারুকাজে একটি পর্দায় প্রাণবন্ত বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন। আরেকজন লম্বা মুখওয়ালা পিতলের চায়ের পাত্র নিয়ে চা ঢালার কৌশলের সঙ্গে মার্শাল আর্টধর্মী অঙ্গভঙ্গি পরিবেশন করেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের শিল্পীদের একটি দলের পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

মেলবোর্নের শিক্ষার্থী আইভি গ্রে সিনহুয়াকে বলেন, ‘চা নৃত্যটি আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। এটি দারুণ ছিল। মার্শাল আর্ট ও নৃত্যের সমন্বয়টি আমার অসাধারণ লেগেছে।‘

তিনি কখনো চীনে যাননি। তিনি জানান, এই পরিবেশনা তাকে দেশটি সফরের ব্যাপারে আরও আগ্রহী করে তুলেছে।

১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত জিলং কলেজের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও পণ্ডিত জর্ন আর্নেস্ট মরিসন এই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বেইজিংয়ে দ্য টাইমসের সংবাদদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জিলং কলেজের চীনা ভাষার শিক্ষক শেন ফেন বলেন, ‘স্কুলের প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা পড়ানো হয়। আর উচ্চতর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১২তম বর্ষ পর্যন্ত ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে চীনা ভাষা পড়া চালিয়ে যেতে পারে।‘

প্রতি দুই বছর পরপর শেন একদল শিক্ষার্থীকে চীনে নিয়ে যান। এসব সফরে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

১১তম বর্ষের শিক্ষার্থী আভা হ্যালিবোন অনুষ্ঠানের উপস্থাপকদের একজন। তিনি চলতি বছরের এপ্রিলে চীন সফর করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চীনা ভাষা শেখা কখনো কখনো কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে ভাষাটির স্বরভঙ্গি ও চীনা অক্ষরের কারণে। তবে এটি তাঁকে অনেক সুযোগও এনে দিয়েছে।‘

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, চীনা সংস্কৃতি খুবই অন্তর্ভুক্তিমূলক।‘ স্নাতক হওয়ার পরও তিনি ভাষাটি শেখা চালিয়ে যেতে চান বলে জানান।

এখানকার অংশগ্রহণকারীদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে চীনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিময়ে অংশ নিতে দেখে চীন-অস্ট্রেলিয়া বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ আরও বেড়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *