শালগমের নিলাম থেকে অনলাইন তারকা, কৃষকের পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছেন উ চুয়ান - Mati News
Sunday, November 8

শালগমের নিলাম থেকে অনলাইন তারকা, কৃষকের পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছেন উ চুয়ান

আফরিন মিম

পরনে ফরমাল পোশাক, পায়ে উঁচু হিল। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নিংসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি শালগমের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে নিলাম ডাকছেন এক নারী। তার সামনে সারি সারি সাদা শালগম। চীনা ও ইংরেজি ভাষায় সেগুলো তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যেন ওগুলো কোনো মূল্যবান শিল্পকর্ম।

ব্যতিক্রমী এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক ভিডিওতেই দর্শক সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১০ লাখ। আর এভাবেই নিজের এলাকার কৃষিপণ্যকে পরিচিত করার নতুন পথ খুঁজে পান সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উ চুয়ান।

অনলাইনে ‘মিনিং গার্ল’ নামে পরিচিত উ চুয়ানের ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সবজি, মিঠাপানির মাছ ও ভেড়ার মাংস। কখনও বাঁধাকপিকে তুলনা করেন মূল্যবান জেড পাথরের সঙ্গে, কখনও সান্ধ্য পোশাক পরে তুলে ধরেন স্থানীয় খাবার-পানীয়। তার ভিডিওগুলো এ পর্যন্ত পাঁচ কোটিরও বেশিবার দেখা হয়েছে।

উ চুয়ানের শৈশব কেটেছে মিনিং শহরে। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসেন তিনি। চীনের ফুচিয়ান ও নিংসিয়া প্রদেশের দারিদ্র্য বিমোচন সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে এই শহর। শুরুতে তার বাবা-মাকে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হয়েছে।

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কিনে দেওয়া ক্যাসেট প্লেয়ার ও ইংরেজি শেখার টেপ থেকেই ভাষাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরে শানতোং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করে ২০১৪ সালে যোগ দেন শিয়ামেন এয়ারলাইন্সে। আন্তর্জাতিক রুটে কাজ করে দুই বছর পর চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন নিজ শহরে।

উ চুয়ানের উপলব্ধি, বিশ্ব ঘুরে দেখার পর নিজের শহরের জন্য কাজ করাই বেশি জরুরি। তাই ইংরেজিতে দক্ষতা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন কৃষিপণ্যের প্রচার।

নিজেই ভিডিওর চিত্রনাট্য লেখা, ধারণ ও সম্পাদনা করেন তিনি। অনলাইনে ক্রেতাদের সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের যোগাযোগও করিয়ে দেন। এজন্য কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের তথ্য লিখে রাখেন ছোট একটি নোটবুকে।

তার ভিডিও দেখে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অর্ডার আসছে। বিদেশি দর্শকরাও জানতে চাইছেন, নিংসিয়ার পণ্য তাদের দেশে পাওয়া যাবে কি না।

উ চুয়ানের ভাষায়, চীনা ভাষা স্থানীয় পণ্যকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, আর ইংরেজি বিশ্বকে স্বাগত জানানোর সুযোগ তৈরি করে। এভাবেই নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে ডিজিটাল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *