পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড: সার্ভার রুমসহ ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কক্ষ - Mati News
Monday, September 14

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড: সার্ভার রুমসহ ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কক্ষ

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া পার্শ্ববর্তী কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে বায়েকের সার্ভার রুমের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়েও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে, যা প্রচণ্ড গরমে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে খবর পেয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পে ছুটে যান। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ তদন্ত শেষ হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে, সার্ভার রুমে আগুন লাগায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. করিব হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *