চট্টগ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব: আমির খসরু - Mati News
Saturday, September 5

চট্টগ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব: আমির খসরু

চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে সরকারের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নগরের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে এই নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মডেলটি চালু করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে এই দুটি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হবে এবং সফল হলে পরবর্তীতে তা পুরো চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত এলাকাগুলোতে পানির সংকট অত্যন্ত তীব্র বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পানি সরবরাহ করলেই হবে না, বরং খাল ও জলপথ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সরকারি প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন মডেলে রক্ষণাবেক্ষণকে পুরো প্রক্রিয়ার অংশ রাখা হয়েছে, যাতে প্রকল্পগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এই এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে পৌঁছেছে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দাকে বেসরকারি বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে ৮৫ থেকে ১১৫ জন বিক্রেতা রয়েছেন, যাদের কাছ থেকে পানি কিনতে গিয়ে বাসিন্দাদের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানির জন্য ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এছাড়া ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা ৬ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ানা ভ্যান ডার লিন্ডেন বলেন, পানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, এই পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান ‘বিল্ডিং ওয়াটার বিজনেস’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগে কাজে লাগানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, ওই কর্মসূচির আওতায় পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনায় ১০৫টির বেশি পাইপলাইনের পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ টি এম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে জনগণের করের টাকা সঠিক ও অর্থপূর্ণ জায়গায় ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণেই প্রচলিত ব্যাংকঋণ বা একক সরকারি অর্থায়নের বাইরে গিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মডেল গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমির খসরু বলেন, এ ব্যবস্থায় সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে এগিয়ে আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের জলপথ ও খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানিনিষ্কাশনের পাশাপাশি আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথমে পানির চাহিদা ও সেবার ঘাটতি নিরূপণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *