প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণ-অনশন, সংসদে তোলার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত - Mati News
Thursday, August 27

প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণ-অনশন, সংসদে তোলার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত

নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার এবং আগের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখার দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান (ইসমাইল) বলেন, প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটারের স্ল্যাব পদ্ধতির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহার এবং যেসব গ্রাহকের ডিজিটাল মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে, তাঁদের আগের মিটার পুনঃস্থাপনের দাবি জানান তিনি। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান (মাসুম) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী এই প্রিপেইড মিটার গ্রহণ করবে না এবং যেখানেই এটি স্থাপনের চেষ্টা করা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে।

এর আগে গত ১১ আগস্ট একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছিল নাগরিক অধিকার ফোরাম। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে হরতালসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

গণ-অনশন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে তিনিও এই সমস্যার ভুক্তভোগী। তবে বিষয়টি সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের হওয়ায় তিনি এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং জাতীয় সংসদে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন। আবুল কালাম বলেন, চলতি সংসদ অধিবেশনেই তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করবেন এবং আশা করেন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংসদ সদস্যের আশ্বাসে বেলা পৌনে একটার দিকে আন্দোলনকারীরা পানি পান করে তাঁদের অনশন ভঙ্গ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *