রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ও জোরালো সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের রাডারে সবসময় গুরুত্বের সাথে থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আড়ালে হারিয়ে না যায়। শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
গোলটেবিল আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট ও উত্তরণের পথ
রবিবার রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশসমূহ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ ও কার্যকর সহায়তায় এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদে কেবল ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভর করে রাখা সম্ভব নয়।
ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
- জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।
- এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।
- প্রায় নয় বছর ধরে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, যার মধ্যে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা অন্যতম।
- ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ ও যাতায়াত ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।
ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও বর্তমান উদ্যোগ
অতীতে সফল প্রত্যাবাসনের উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। সেই সফল অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই বর্তমান সরকার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠন করা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অংশগ্রহণকারী ও অতিথিবৃন্দ
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সূচিত এই গোলটেবিল আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং সংকট সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া কেবল অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে মূল সমাধানের তাগিদ কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।




















