সনাতন ধর্মাবলম্বীদের 'ভোট ব্যাংক' ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - Mati News
Saturday, September 5

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তাদের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করত, কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে জন্মাষ্টমীর মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে পলাশীর মোড় থেকে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের উদ্দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আপনারা সঠিক বিচার করেছেন। বিগত নির্বাচনে আপনারা অসুর শক্তির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। আগামী দিনে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে এবং অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখতে আপনাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল ধর্মের মানুষের উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা শ্রেয়। তিনি বলেন, সাহিত্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা থাকলেও, এখন থেকে আমরা ধর্মীয় সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কেউ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করবেন না, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাই হবে মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কেউই সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সবার পরিচয় হওয়া উচিত।’ মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *