ঢাবিতে ‘চীনের সমুদ্র অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনার, অপার সম্ভাবনার দ্বার - Mati News
Monday, September 21

ঢাবিতে ‘চীনের সমুদ্র অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনার, অপার সম্ভাবনার দ্বার

স্থলভাগের সীমিত সম্পদ অতিক্রম করে টেকসই সমুদ্র অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। বর্তমানে দেশটির মোট সামুদ্রিক উৎপাদন বা গ্রস ওশান প্রোডাক্ট ১১.০২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে উন্নীত হয়েছে, যা চীনের জাতীয় জিডিপির প্রায় ৭.৯ শতাংশ।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘চীনের সমুদ্র অর্থনীতি: রূপান্তর, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ঢাবির সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন শাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও চায়না ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি রিসার্চ সেন্টারের উপ-পরিচালক ইয়াং ওয়েই।

তিনি চীনের সামুদ্রিক অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ, টেকসই কৌশল এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেন। ইয়াং ওয়েই জানান, ২০২০ সালে চীনের গ্রস ওশান প্রোডাক্ট যেখানে ছিল ৭.৯৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, ২০২৫ সালে তা ১১.০২ ট্রিলিয়নে পৌঁছায়। এই অর্থনীতিতে সেবাখাতের অবদান সবচেয়ে বেশি (৫৮.৩%), যার পেছনে সামুদ্রিক পর্যটনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে একক আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব জাহাজ নির্মাণ বাজারের ৫৬.১% সম্পন্ন অর্ডার এবং ৬৯.০% নতুন অর্ডারই চীনের দখলে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে চীনের মোট জলজ পণ্য উৎপাদন ৭৬.৫২ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে, যার বড় অংশই (৮২.৭%) এসেছে চাষকৃত পদ্ধতি থেকে।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ইয়াং ওয়েই জানান, সামুদ্রিক দূষণ ও দুর্যোগের কারণে ২০২৫ সালে চীনের ৮.৯০ বিলিয়ন ইউয়ানের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন উপকূলীয় পানির মান উন্নয়ন, প্রবাল প্রাচীর পুনরুদ্ধার, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত গ্রীষ্মকালীন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ নানা টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এর আগে সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্সের পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী বলেন, চীনের ব্লু ইকোনমির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু এর বিশাল আকার নয়, বরং এর কাঠামোগত পরিবর্তন।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী সমুদ্র-ভিত্তিক কার্যক্রম, বিশেষ করে মৎস্য ও নৌপরিবহনখাতের পাশাপাশি চীন প্রযুক্তি-নির্ভর বিভিন্ন শিল্পকে সমুদ্র অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি, ব্লু কার্বনসহ নানা উদ্ভাবনী খাত।

ঘণ্টাব্যাপী এই সেমিনার শেষে এক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত বক্তা ইয়াং ওয়েই’র হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *