জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান - Mati News
Sunday, August 30

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

নিয়োগ ও কর্মজীবনের পটভূমি

আইরিন খান গত ৮ জুলাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর আগে ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন; এই পদে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা

  • ২০০১ সাল থেকে টানা আট বছর মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
  • জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে কর্মজীবন শুরু করে সেখানে ২১ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে ভারতে মিশন প্রধানের ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
  • ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) নেতৃত্ব দিয়েছেন।
  • ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলের ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • ২০১০-২০১১ সময়ে ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন আইরিন খান।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও স্বীকৃতি

মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আইরিন খান জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক। এছাড়া তিনি বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করা আইরিন খান মানবাধিকারের লড়াইয়ে অবদানের জন্য ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *