‘বাংলাদেশে আলোকযাত্রা’ কর্মসূচীর আওতায় চীনের ইয়ুননান প্রদেশের চিকিৎসকদের উদ্যোগে ১০০ জন ছানি রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বক্তব্যে মন্ত্রী নিজস্ব উদ্যোগ ও ব্যয়ে বাংলাদেশে এসে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়াকে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতেও চীন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, চিকিৎসা প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নে চীনের অবদান উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করছে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইয়ুয়িন বক্তব্য রাখেন। তিনি এই স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতার মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মাঝে বন্ধুত্ব ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সহায়তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানো এবং বাংলাদেশি রোগীদের চীনে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের হাসপাতালের মধ্যে যৌথ ক্লিনিক, চিকিৎসা প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।’
বাংলাদেশের স্থানীয় সহযোগী হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগী বাছাই, অস্ত্রোপচার কক্ষ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের পর অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিতে ছানি অপসারণ ও কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়।
ইয়ুননান প্রদেশের ফার্স্ট পিপলস হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ই হুয়াং বলেন, ‘ছানি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই কর্মসূচিতে কাজ করতে গিয়ে চীন ও বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন পদ্ধতি, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন।’
চীনা চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রোগীরা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ চীনা হাসপাতালের প্রতিনিধিরা।
চীনের ইয়ুননান প্রফেশনাল পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ইউননান প্রদেশের ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ডিএমসিএইচ)। এতে সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছে চায়না-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকায় অবস্থিত ইয়ুননান কমার্শিয়াল রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের চিকিৎসা পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে এবং বাংলাদেশ-চীন স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা




















