আর্থিক মন্দার ঝুঁকি মোকাবিলায় যেভাবে পরিকল্পনা করবেন আপনার সঞ্চয় ও খরচের - Mati News
Monday, October 12

আর্থিক মন্দার ঝুঁকি মোকাবিলায় যেভাবে পরিকল্পনা করবেন আপনার সঞ্চয় ও খরচের

বর্তমান বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, এ বছর যে পণ্যের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকার বেশি হবে। একদিকে আয় কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে জীবনযাত্রার অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। ঘনঘন বাইরে ঘুরতে যাওয়া, শখের বশে দামি পোশাক কেনা কিংবা নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাওয়ার মতো বিলাসিতাগুলো কমিয়ে আনতে হবে। যে খরচগুলো না করলেও চলে, সেগুলো এখনই বর্জন করা বুদ্ধিমানের কাজ।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। যেমন, পরিবারের জরুরি খরচের জন্য ২০ শতাংশ বাজেট রাখা এবং আয়ের ৩০ শতাংশ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ রাখা। তবে শুধু ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখলে খুব একটা লাভ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রকৃত অর্থে মূলধনের মান কমে যায়। তাই মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় এমন খাতে বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কেবল আর্থিক সংকটই নয়, মানসিক চাপের কারণও হতে পারে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, এক সময় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে শুধু রেস্টুরেন্টের বিল বাবদ ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো, যা ছিল একটি ভুল অভ্যাস। এখন নতুন কোনো খরচের খাত তৈরি হলে তার জন্য আগে বাড়তি আয়ের উৎস খোঁজা হয়। যদি বাড়তি আয়ের পথ তৈরি না করা যায়, তবে সেই খরচ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বর্তমান আয়ের ওপর ভিত্তি করে নতুন কোনো বড় খরচ করা বোকামি।

উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি কেনার কথা ধরা যাক। একটি গাড়ির পেছনে মাসে লক্ষাধিক টাকা খরচ হতে পারে। তাই গাড়ি কেনার আগে সেই খরচের সমপরিমাণ বাড়তি আয়ের উৎস নিশ্চিত করা যৌক্তিক। অন্যথায়, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করা অনেকটা হাতি পোষার মতো ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে, হিসাবি হওয়া মানেই কৃপণতা নয়, বরং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সচেতন হওয়া। তাই টাকা জমিয়ে না রেখে সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কয়েক বছর আমার প্রতিমাসে ক্রেডিট কার্ডে ১৫-২৫ হাজার টাকা শুধু রেস্টুরেন্টের বিল এসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *