ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির সুযোগ থাকছে না। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী জানান, আদালত রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন, ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা ২০২২ সালে হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরাইজড ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। রিটকারী দাবি করেন, তিনি একজন পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং ইসলামী শরিয়াহর বিধান মেনে চলেন, যার ফলে তিনি ছবি তুলতে আগ্রহী নন। এনআইডি না থাকায় তিনি বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। রুলে ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে এনআইডি তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, ছবি ছাড়া এনআইডি প্রদানের বিষয়টি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তারা আদালতকে জানায়, হজে যাওয়া কিংবা ব্যাংক হিসাব খোলার মতো বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ছবি বাধ্যতামূলক। ছবি ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং এতে জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে। এছাড়া শুধু বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় নিশ্চিত করতে গেলেও চোখের আইরিশ স্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে পর্দা সরানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দিলেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল।




















