ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যেহেতু এই জলপথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, তাই এর নাম পরিবর্তন করা উচিত কি না। ট্রাম্পের দাবি, নতুন এই নামে প্রণালিটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ‘উত্তপ্ত’ হয়ে উঠবে। এর আগে তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামকরণ করেছিলেন। এছাড়া কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের সময় লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের এসব প্রস্তাব অনেক সময় হাস্যরসাত্মক মনে হলেও, পরে তিনি সেগুলো বাস্তবায়নেও তৎপরতা দেখিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় এই জলপথ এখন অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে গড়ে প্রতি রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপার করছে। ইরান নতুন করে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ তোলার পর মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় নতুন করে হামলা চালায়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক সংঘাত শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত’ দেশ হিসেবে অভিহিত করে সোমবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নৌবাহিনীর সহায়তায় জাহাজ চলাচলের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।




















