২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন: লক্ষ্য ২০৩০ সালে মৃত্যু অর্ধেকে নামানো - Mati News
Tuesday, September 8

২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন: লক্ষ্য ২০৩০ সালে মৃত্যু অর্ধেকে নামানো

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের কাজ করছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো বিষয়ে আনুষ্ঠানিকতা ভালো হলেও বাস্তবায়ন ও শেখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প নেওয়া হলেও, সেসব প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ না করলে কর্মশালাগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তেই আটকে থাকবে। তিনি সড়ককে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, রাস্তা পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ‘রাস্তা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না’—এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দেন। এছাড়া সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

দুর্ঘটনা রোধে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অনুমানের ওপর নির্ভর না করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সড়ক পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই বিভাগের সদস্যদের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে যাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কারও ব্যক্তিগত ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রাণহানি সহ্য করা হবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহারের মতো বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, এসব কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

কর্মশালায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, সওজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে একটি নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, সরকার সড়ক খাতে কত টাকা ব্যয় করছে, তার হিসাব রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই ব্যয়ের বিপরীতে অর্জন কতটা হচ্ছে, সেটিও জনগণের প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার পর সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে আগেই প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ধারার পরিবর্তন না হলে কর্মশালা বা উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *