কাতার এনার্জির ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা: এলএনজি সংকটে বাংলাদেশ, ভরসা স্পট মার্কেট - Mati News
Friday, September 4

কাতার এনার্জির ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা: এলএনজি সংকটে বাংলাদেশ, ভরসা স্পট মার্কেট

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে কাতার এনার্জি তাদের ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকেই কাতার এনার্জি তাদের চুক্তিবদ্ধ এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এই পরিস্থিতির কারণে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত এলএনজি প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যদিও পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কাতার এনার্জির কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমানের কাছ থেকে নিয়মিত গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও তা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহ না পাওয়ায় স্পট মার্কেটই এখন একমাত্র ভরসা। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, যার ফলে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রকৌশলী মো. শোয়েব আরও জানান, দেশের দুটি টার্মিনালের জন্য প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর প্রয়োজন হয়। সেপ্টেম্বরের চাহিদার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৯টি কার্গোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা দিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোবাংলা নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টি সরবরাহকারী কোম্পানির বাইরে আরও ৯টি কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির ফলে সরকারের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ১০ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে থাকলেও, আগস্টের শেষ সপ্তাহে তা ২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম এই প্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে চড়া দাম, তা বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, অনিবার্য কারণে কোনো চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আইনি দায়বদ্ধতা এড়াতে সাধারণত ফোর্স মেজার ঘোষণা করা হয়। কাতার এনার্জি এরই মধ্যে একাধিক ক্রেতাকে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিলেও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টির বাইরে আরও ৯ কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করে প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও এলএনজি পাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *