অর্থনীতির নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতি সহায়তা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় পরিষদের এক নির্বাহী বৈঠকে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। বৈঠকে অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, অর্থনীতিতে যেসব নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থনীতির মানসম্মত ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
২০২৬ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা করবে দেশটি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের বন্ড দ্রুত ইস্যু ও ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বড় প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পানি সরবরাহব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড, কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, শহরের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন এবং পণ্য পরিবহনের নেটওয়ার্ক।
এ ছাড়া পুরোনো জলাধার ও শস্য সংরক্ষণাগার সংস্কার এবং আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের ভোগ বা খরচ বাড়াতে বিভিন্ন নীতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ সহায়তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আবাসন খাতকে স্থিতিশীল রাখতে নতুন নীতি নেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে চীন।
বৈঠকে নতুন ধরনের দূষণকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণের কাজ নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি খসড়া বিধিমালাও অনুমোদন করা হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি



















