বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) আত্ম-সংস্কার এবং পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের প্রাণশক্তি বজায় রাখা ও শাসনক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করছে। কোনো একটি বিশেষ ঐতিহাসিক মুহূর্তের ওপর নির্ভর না করে দলটি ধারাবাহিক আত্ম-সংস্কারকে নিজেদের শাসনপ্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) সদ্য প্রকাশিত এক প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় থেকেও কীভাবে সিপিসি আত্ম-সংস্কারের পথ অনুসরণ করে এবং জনগণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের প্রাণশক্তি অটুট রাখছে।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত সিপিসির ১৯তম কেন্দ্রীয় কমিটির ষষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সিপিসি পরিচালনের মূলমন্ত্র কী— এই ঐতিহাসিক প্রশ্নের উত্তর দেন। আর তা হলো’আত্ম-সংস্কার’।
১৯৪৫ সালে চেয়ারম্যান মাও সেতুং এই প্রশ্নের প্রথম উত্তর দিয়েছিলেন ‘জনগণের তত্ত্বাবধান’ হিসেবে। আত্ম-সংস্কারের নীতি মাওয়ের সেই মূল দর্শনেরই প্রতিধ্বনি। এর লক্ষ্য ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তা যেন দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তা নিশ্চিত করা।
কুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রবার্ট লরেন্স কুন বলেন, ‘তাদের (সিপিসি) ওপর অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে, কারণ তারা দেশের উন্নয়নের জন্য দায়বদ্ধ। এটি কেবল আদর্শিক বিষয় নয়, বরং এটি উন্নয়নের এমন একটি কাঠামো, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন এবং চীনা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নানা উদ্যোগ।‘
দৈনন্দিন শাসনকার্যেও সিপিসি এই নীতি অনুসরণ করে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দলের শৃঙ্খলা পরিদর্শন ও তদারকি কর্তৃপক্ষ সরকারি বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে, যাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
আত্ম-সংস্কারের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিপিসি তার নেতৃত্ব ও শাসনক্ষমতাকে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
সূত্র: সিএমজি



















