চীনের গ্র্যাভিটি-১ ওয়াই৩ ক্যারিয়ার রকেট ৯টি স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করেছে। বুধবার বেইজিং সময় সকাল ৬টায় শাংহাইয়ের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমা থেকে সমুদ্রপথে এ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। একক মিশনে বহন করা পেলোডের ওজন এবং কক্ষপথের উচ্চতার ক্ষেত্রে এ উৎক্ষেপণ নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
মিশনটি পরিচালনা করেছে থাইইয়ুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। রকেটটিতে ছিয়ানফান কনস্টেলেশনের নতুন একটি স্যাটেলাইট বহর এবং একটি ইইউএইচটি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ছিল। গ্র্যাভিটি-১ রকেটের এটি ছিল চতুর্থ উড্ডয়ন।
গ্র্যাভিটি-১ একটি কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট। এটি তৈরি করেছে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ কোম্পানি ওরিয়েনস্পেস। রকেটটির সর্বোচ্চ পেলোড বহনক্ষমতা ৬ দশমিক ৫ টন। এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে গ্র্যাভিটি-১ দ্বিতীয়বার দূর সমুদ্রে গিয়ে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম পরিচালনা করল। এর আগে ২২ জুলাই একই এলাকা থেকে গ্র্যাভিটি-১ ওয়াই৪ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটিও ৯টি স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করে।
ওরিয়েনস্পেসের গ্র্যাভিটি-১-এর প্রধান নকশাবিদ সু কুওকুয়াং বলেন, ‘আমরা রকেটটির সম্পূর্ণ বহনক্ষমতা ব্যবহার করেছি। কেবল ১০০ কিলোগ্রামের সামান্য বেশি ব্যালিস্টিক মার্জিন রাখা হয়েছে। বাকি সবকিছু উৎক্ষেপণ পেলোডে ব্যবহার করা হয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথের জন্য আমাদের বর্তমান ব্যবহার তিন টন ছাড়িয়ে গেছে।‘
এই মিশনের মাধ্যমে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলীর নেটওয়ার্ক গঠনের প্রয়োজন মেটাতে স্তূপাকারে সাজানো স্যাটেলাইটের বিশ্বের প্রথম কঠিন রকেট উৎক্ষেপণও সম্পন্ন হয়েছে। গ্র্যাভিটি-১ একাধিক স্যাটেলাইটকে একটির ওপর আরেকটি রেখে ‘ব্লকের স্তূপের’ মতো সাজানো হয়। এতে ফেয়ারিংয়ের ভেতরের জায়গার ব্যবহার এবং পেলোড অনুপাত বাড়ানো যায়।
সু বলেন, ‘অতীতে একাধিক পেলোড উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটগুলো সাধারণত একটি ভারবহনকারী সিলিন্ডারের সঙ্গে দেয়ালে ঝোলানোর মতো করে স্থাপন করা হতো। ফলে রকেটের ভেতরের জায়গার ব্যবহার খুব বেশি কার্যকর ছিল না। স্তূপাকারে স্যাটেলাইট স্থাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি রকেটের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। একই সঙ্গে স্যাটেলাইটগুলোর ক্ষেত্রে গড় উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমে আসে।‘
সূত্র: সিএমজি


















