শেনচৌ-২৩ মিশনের নভোচারী চু ইয়াংচু, চাং চিইউয়ান এবং লাই খ্য-ইং গত চার মাস ধরে চীনের থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন।
২৪ মে যাত্রা শুরু করে পরদিন মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানো এই তিন নভোচারী শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং কক্ষপথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছেন।
তাদের চলমান মিশনের অংশ হিসেবে নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনের সোলার উইং বা সৌর প্যানেলগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন এবং পূর্বনির্ধারিত ১০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রয়োগমূলক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে তারা মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি-মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে পদার্থবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। নভোচারীরা উচ্চ-তাপমাত্রার উপাদান নিয়ে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ক্যাবিনেটে পরীক্ষামূলক নমুনা প্রতিস্থাপন ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি, তারা একটি মেটাকগনিটিভ প্রশিক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাথমিক অবস্থায় ইমেজ রিকগনিশন বা চিত্র শনাক্তকরণ সংক্রান্ত অনুশীলনও সম্পন্ন করেছেন।
তাদের মিশনের জন্য পরিকল্পিত ১০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো— মহাকাশ জীবন বিজ্ঞান, মহাকাশ বস্তু বিজ্ঞান, মাইক্রোগ্র্যাভিটি ফ্লুইড ফিজিক্স, মহাকাশ চিকিৎসা এবং নতুন মহাকাশ প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে গভীর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই করা।
৯ সেপ্টেম্বর নভোচারী দলটি থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশন থেকে হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল এবং ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিজ্ঞানপাঠের আয়োজন করেন।
এই পাঠে বেশ কিছু আকর্ষণীয় প্রদর্শনী ছিল— যেমন মহাকাশ স্টেশনের রান্নাঘরে কেক তৈরি, ভেজা তোয়ালে নিংড়ানো এবং হংকংয়ের প্রতীকী ফুল ‘বাউহিনিয়া’কে মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি-মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে ভাসমান অবস্থায় দেখানো। পুরো বিষয়টি হংকং ও ম্যাকাওয়ের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভবিষ্যতেও নভোচারী দলটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং পেলোড সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
চলতি বছর চীনের প্রথম মানববাহী মহাকাশ অভিযানের ২৩তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২০০৩ সালের অক্টোবরে ‘শেনচৌ-৫’ মিশনের মাধ্যমে চীন প্রথমবারের মতো মানুষসহ মহাকাশযান পাঠায়।
সূত্র: সিএমজি
সিএমজি বাংলা। 


















