বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খনন করা এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই সরবরাহ দেশের চলমান গ্যাস সংকট কমাতে ভূমিকা রাখবে।
শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে তিতাসের নতুন কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বস্তির খবর। এ ধরনের উদ্যোগ গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে।
চীনের সমন্বিত খনন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি ছুয়ানছিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় তিতাসের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়। ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতার কূপটি খনন করেছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিসিডিসি’।
কূপটি থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ গড়ে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। মূসক ও আয়করসহ কূপটি খননে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। এরপর ১৯ জুন পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, কূপটির ওয়েলহেড শাট-ইন প্রেসার ৩ হাজার ৬০০ পিএসআই এবং ফ্লোয়িং প্রেসার ২ হাজার ১০০ পিএসআই। দীর্ঘ সময় ধরে কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন ৩২৫ থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন ২৮ নম্বর কূপ থেকে যুক্ত হলো আরও প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এ ছাড়া আরও চারটি কূপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি

















