জাপান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি: জাতিসংঘে চীনা প্রতিনিধি - Mati News
Friday, October 9

জাপান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি: জাতিসংঘে চীনা প্রতিনিধি

বর্তমান জাপানি সরকারের ‘পুনঃসামরিকীকরণ’ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার), ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কমিটির (প্রথম কমিটি) সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন, চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক সুন সিয়াও পো।

সুন সিয়াও পো বলেন, চলতি বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী। তখন জাপান তার সামরিক অপরাধ স্বীকার করে এবং জাতিসংঘ সনদের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু মেনে নেওয়ার শর্তে জাতিসংঘে যোগ দেয়। কিন্তু বর্তমান জাপানি সরকার তার আগ্রাসনের ইতিহাস অস্বীকার করছে, যুদ্ধাপরাধকে মহিমান্বিত করছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের পূজা করছে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও ‘পুনঃসামরিকীকরণ’ ত্বরান্বিত করছে। যার ফলে দেশটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানের উচ্চপদস্থ জাপানি কর্মকর্তারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই, পারমাণবিক অস্ত্র রাখার বিষয়ে প্রকাশ্যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করছেন এবং ‘তিনটি পারমাণবিক-অস্ত্র নীতি’ পরিত্যাগ করার চেষ্টা করছেন, যা একটি গুরুতর উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘ সনদ থেকে ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ মুছে ফেলার জাপানের প্রস্তাবটি হলো, ‘জাতীয় স্বাভাবিকীকরণ’-এর আড়ালে, যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের চ্যালেঞ্জের সর্বশেষ উদাহরণ। জাপানের উচিত তার আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, সামরিকবাদের সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করা, ‘পুনঃসামরিকীকরণ’-এর প্রচেষ্টা পুরোপুরি পরিত্যাগ করা, এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের বিষয়ে তার আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা আন্তরিকভাবে পালন করা।

সুন সিয়াও পো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরম কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে, ‘পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি’ এবং ‘বর্ধিত প্রতিরোধ’-এর তথাকথিত ধারণার মাধ্যমে, একটি পারমাণবিক জোট গঠন অব্যাহত রেখেছে, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। চীন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তির উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যে ঐকমত্য, তাকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

তিনি বলেন, চীন শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত, নির্ভরযোগ্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের পক্ষে। চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে; জাতিসংঘকে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সমর্থন করে, এবং ‘ক্ষুদ্র-বৃত্ত’ শাসন জোট গঠনের বিরোধিতা করে। এই বছর, চীন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে “আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার শান্তিপূর্ণ ব্যবহার প্রসারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা” বিষয়ে আবারও একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করবে এবং প্রস্তাবটির পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সকল দেশের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *