ইউরেশীয় অঞ্চলে যোগাযোগ ও সংযোগ বৃদ্ধি, অভিন্ন উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন এবং বহুপাক্ষিকতা চর্চায় বুলগেরিয়ার অংশীদার হতে প্রস্তুত চীন। সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেলিস্লাভা পেত্রোভার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এ কথা বলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি বুলগেরিয়া। বছরের পর বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চীন-বুলগেরিয়া সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের মুখোমুখি হয়েছে। তার বুলগেরিয়া সফরও উপযুক্ত সময়ে হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছেছে।‘
ওয়াং ই বলেন, পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতা আরও গভীর করতে দুই পক্ষের উচিত রাজনৈতিক ভিত্তি সুসংহত করা এবং যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করা। তিনি বলেন, বুলগেরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে চীন। নতুন সরকারের নেতৃত্বে বুলগেরিয়া উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতি বাড়াচ্ছে, যা দেখে চীন আনন্দিত। এ প্রক্রিয়ায় বুলগেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হতে প্রস্তুত চীন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুলগেরিয়া এক-চীন নীতি মেনে চলবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের বৈধ অবস্থান বুঝবে ও সমর্থন করবে।
বৈঠকে ভেলিস্লাভা পেত্রোভা বলেন, ‘বুলগেরিয়া ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বুলগেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এক-চীন নীতি অনুসরণ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে এ নীতি মেনে চলবে।‘ তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন বুলগেরিয়ার নতুন সরকারের সুস্পষ্ট লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ও বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাখাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং উচ্চপ্রযুক্তি ও উচ্চ মূল্য সংযোজনমূলকখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বুলগেরিয়া প্রস্তুত।‘
বৈঠকে দুই পক্ষ ইউক্রেন সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করে।
সূত্র: সিএমজি




















