চীনের ভাষা-সংস্কৃতি-শিক্ষার প্রতি ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে - Mati News
Saturday, September 19

চীনের ভাষা-সংস্কৃতি-শিক্ষার প্রতি ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে

চীনের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় সুযোগ বৃদ্ধিতে ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীরা চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থী জিনার চীনের প্রতি আগ্রহের শুরু হয়েছিল পরিবার থেকে। পরিবারের সঙ্গে চীনা টিভি নাটক দেখার মাধ্যমে তার মধ্যে এই কৌতূহল তৈরি হয়।

জিনা বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার আন্টি ও আঙ্কেলের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক ছিল। আমরা অনেক চীনা নাটক দেখতাম, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী চীনা নাটক। এগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যেতাম, বিশেষ করে নারী অভিনেত্রীদের দেখে। তারা খুব সুন্দর পোশাক ও মেকআপ ব্যবহার করতেন। এটি ছিল সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা।‘

জিনা বর্তমানে জাকার্তার লন্ডন স্কুল অব পাবলিক রিলেশন্সে (এলএসপিআর) পড়াশোনা করছেন।

চলতি বছর তার স্কুল চীনের শীর্ষস্থানীয় ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সিছুয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির (এসআইএসইউ) সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জাকার্তায় চীনা ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক একটি নতুন কেন্দ্র চালু করছে।

এলএসপিআর ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিতা কেমাল গানি বলেন, ‘এলএসপিআর ও এসআইএসইউ চীনা ভাষার ক্ষেত্রে চীনের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে আমরা চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করছি। শুধু ভাষা শেখা যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সংস্কৃতিও ভালোভাবে শেখা প্রয়োজন। যারা চীনে যেতে চায় বা চীন সম্পর্কে জানতে চায়, তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।‘

গবেষকদের মতে, চীনের উন্মুক্ততা ইন্দোনেশীয়দের মধ্যে দেশটি সম্পর্কে জনমনে ধারণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।

জিনার জন্য এসব পরিবর্তন বাস্তব জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ‘আগে আমি ভাবতাম না যে চীনে যাওয়া সম্ভব, অন্তত ছোটবেলায় তো নয়ই। কিন্তু এলএসপিআরের সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং অনেক চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এর সহযোগিতা দেখে আমার মনে হচ্ছে, অবশেষে হয়তো শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে চীনে যাওয়া কিংবা সেখানে মাস্টার্স করার স্বপ্ন পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য একটি দুর্দান্ত পথ হতে পারে।‘

চীন ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ভাষা ও অভিন্ন সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে। কৌতূহলকে তারা আরও গভীর ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে রূপ দিচ্ছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *