সত্তর বছর পর চীন-মিশর সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাবে? - Mati News
Tuesday, October 27

সত্তর বছর পর চীন-মিশর সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাবে?

C:\Users\lili\Downloads\_cgi-bin_mmwebwx-bin_webwxgetmsgimg__&MsgID=2360179133145751076&skey=@crypt_c04b01ca_4a70b1f25b8539433030954c0d0f9368&mmweb_appid=wx_webfilehelper.jpg

সেপ্টেম্বর ৩: ‘এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর’, ‘এটি মিশর ও চীনের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এক নতুন সমসাময়িক তাৎপর্য দিয়েছে,’ ‘দুই দেশ ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলছে’… মিশরীয় সমাজ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর ১ ও ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। এই সফরকালে দুই রাষ্ট্রপ্রধান আলোচনা করেন এবং ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছান। প্রেসিডেন্ট সি চীন-মিশরের এক অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব দেন। প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন যে, মিশর দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের বৃহত্তর উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বর্তমানে, চীন ও মিশর উভয়ই উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার একটি ভালো সূচনা হয়েছে এবং মিশরের ‘নব্য প্রজাতন্ত্র’ গড়ার কাজ পুরোদমে চলছে। ৭০ বছর ধরে হাতে হাত রেখে চলার পর, এই জটিল ও সদা পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চীন ও মিশর কীভাবে একটি অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে?

রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা হলো চীন-মিশর সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর। গত এক দশকে, প্রেসিডেন্ট সি এবং প্রেসিডেন্ট সিসি একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন, যা চীন ও মিশরের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে উল্লম্ফনমূলক উন্নয়ন অর্জনে পথ দেখিয়েছে। এই সফরকালে, প্রেসিডেন্ট সি দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থন এবং উচ্চ-পর্যায়ের বিনিময়ের গতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন; প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন যে, মিশর দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। চীন টানা ১৪ বছর ধরে মিশরের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০.৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মিশর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে অংশগ্রহণকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। গত মে মাসে, আফ্রিকান পণ্যের জন্য নির্ধারিত শুল্কমুক্ত ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি চীনে পরিবহণ করা মিশরীয় কমলালেবু চীনা বাজারে প্রবেশকারী প্রথম আফ্রিকান পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে। এ বছরের প্রথম সাত মাসে, চীনে মিশরীয় কৃষি পণ্যের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮২.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। চীন ও মিশর উভয়ই প্রাচীন সভ্যতা এবং তাদের মধ্যে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান রয়েছে। ২০২৫ সালে তিন লাখেরও বেশি চীনা পর্যটক মিশর ভ্রমণ করেছেন এবং শাংহাই জাদুঘরের ‘প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা প্রদর্শনীতে’ প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন। মিশরের ৪০টিরও বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চীনা ভাষায় শিক্ষাদান চালু করা হয়েছে।

প্রধান উন্নয়নশীল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে, চীন ও মিশর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো এবং বহুপাক্ষিকতা চর্চার ক্ষেত্রে অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পোষণ করে। একসাথে সত্তর বছরের নানা প্রতিকূলতা ও সংকট মোকাবিলা করে চীন-মিশর সম্পর্ক এক নতুন সূচনা বিন্দুতে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, চীন ও মিশর বন্ধুত্বের আদর্শ, যৌথ উন্নয়নের মানদণ্ড, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উদাহরণ, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় অগ্রদূত এবং চীন-আরব ও চীন-আফ্রিকা সহযোগিতার নেতা হিসেবে কাজ করবে; চীন-মিশরের অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনে ক্রমাগত অগ্রগতি সাধন করবে এবং এই উত্তাল ও পরিবর্তনশীল বিশ্বে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করবে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *