নবম চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা উপলক্ষে, সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপের সিজিটিএন ও চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে, ‘২০২৬ সালের বৈশ্বিক উন্মুক্তকরণ পরিস্থিতি’ শীর্ষক অনলাইন জনমত জরিপ পরিচালনা করে। অংশগ্রহণকারীরা ব্যাপকভাবে চীনের উন্মুক্তকরণের ইতিবাচক মূল্যায়ন করেন।
বিশ্বের ৪৪টি দেশের ২০ হাজার ১০০ জন নেটিজেন জরিপে অংশগ্রহণ করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণভাবে মনে করেন, বিশ্বে উন্মুক্ত পরিবেশ ক্রমেই আরও জটিল ও কঠিন হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়লেও, ভূরাজনৈতিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা আয়োজনের মাধ্যমে উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণের উদ্যোগের ইতিবাচক মূল্যায়ন করেন। তাঁদের মতে, নানা অস্থিরতা ও পরিবর্তনে ভরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ, বিশ্বকে স্থিতিশীলতার আস্থা যোগাচ্ছে।
বিশ্বের উন্মুক্ত পরিবেশ সম্পর্কে মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর উত্তরদাতাদের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার হার ৬৫.৫ শতাংশ। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী উত্তরদাতারা উন্মুক্ত পরিবেশ সম্পর্কে সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা সহজ করার ক্ষেত্রে, ‘বাণিজ্য ও সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে, ৮১.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত বৈশ্বিক উন্মুক্ত পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘বড় দেশগুলোর একতরফা চাপ প্রয়োগ ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে’ অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতের উন্মুক্ত পরিবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর উত্তরদাতারা তুলনামূলকভাবে বেশি আশাবাদী। তাঁদের মধ্যে আগামী এক থেকে তিন বছরে বিশ্ব আরও উন্মুক্ত হবে বলে মনে করার হার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
চলতি বছর চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা বছর। উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ সক্রিয়ভাবে সম্প্রসারণে চীন বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সমাজের ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর উন্মুক্তকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে কোন দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণযোগ্য—এমন প্রশ্নে ৪২.৭ শতাংশ উত্তরদাতা চীনকে বেছে নিয়েছেন, যা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যে স্বীকৃতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি অনেক বেশি এবং দেশটির উন্নয়নের গতি দ্রুত। ৮৪.৬ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবদান উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের অর্থনীতির সক্ষমতা ও সহনশীলতা রয়েছে।
চীনের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ভিসামুক্ত নীতি বিশ্বজুড়ে উত্তরদাতাদের মনে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা শীর্ষ পাঁচটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে স্থান পেয়েছে। ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে, ৬৫.৬ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: সিএমজি

















