বড়পুকুরিয়া খনির বর্জ্য থেকে কয়লার গুঁড়া সংগ্রহ: পরিবেশ ঝুঁকির মুখে স্থানীয়দের জীবিকা - Mati News
Saturday, October 24

বড়পুকুরিয়া খনির বর্জ্য থেকে কয়লার গুঁড়া সংগ্রহ: পরিবেশ ঝুঁকির মুখে স্থানীয়দের জীবিকা

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির বর্জ্য নিষ্কাশন ড্রেন দিয়ে ভেসে আসা কয়লার গুঁড়া ও কাদা মাটি স্থানীয়দের আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। খনি এলাকার রসুলপুর, শাহগ্রাম, চৌহাটিগ্রাম ও কালুপাড়ার বাসিন্দারা খনির ড্রেনের পাশে শতাধিক ছোট ছোট পুকুর বা ‘মেটেল’ খনন করেছেন। ভূগর্ভস্থ খনি থেকে পানি নিষ্কাশনের সময় কয়লার অ্যাশ ও গুঁড়া মিশ্রিত পানি এসব পুকুরে জমা হয়। পরে পুকুর সেচে তলানি থেকে কালো কাদা মাটি সংগ্রহ করে তা ট্রলিতে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি ট্রলি মাটি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

কয়লা খনির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় তলদেশের পানি অপসারণ করতে হয়। এই পানির সঙ্গেই কয়লার গুঁড়া ও ছাই বাইরে বেরিয়ে আসে, যা পরে পুকুরের তলানিতে জমে কালো মাটিতে পরিণত হয়। এদিকে, ইটভাটার মালিকরা জানিয়েছেন, তারা এই কালো মাটি টন প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় কিনে নেন। যেখানে আমদানি করা কয়লার দাম ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত, সেখানে খরচ কমাতে অনেক ভাটা মালিক এই মিশ্রিত মাটি ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করছেন।

তবে এই কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বৈগ্রামের বাসিন্দা ও মেটেল মালিক সহিদুল ইসলাম জানান, খনির এই কালো পানি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং জমিতে মিশলে উর্বরতা শক্তি নষ্ট হতে পারে। তাই পুকুর কেটে পানি আটকে রাখা হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। চৌহাটি গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, খনি এলাকায় অনেকেই এভাবে পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করছেন, যা মূলত অবৈধ। তিনি খনির পানি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও শোধনের দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, খনি থেকে বের হওয়া পানি পশ্চিমের চিলাহাটি-খুলনা রেলপথের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এলাকাবাসী সেই পানি আটকে পুকুর তৈরি করে রেখেছেন। অবৈধভাবে এই মাটি আহরণ ও ব্যবহারের ফলে স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *