চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পরীক্ষার্থী - Mati News
Sunday, August 23

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পরীক্ষার্থী

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নাফিসা নাওয়াল (১৮)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার নেভি হাসপাতাল গেটের বিপরীতে একটি টোয়িং ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এই শিক্ষার্থী। পরে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নাফিসা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং নগরের কাঠগড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়।

মেয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ বাবা মামুন মিয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার সবকিছুই শেষ। ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। লেখাপড়া শেষ করে ভালো কিছু করবে—এমনটাই চেয়েছিলাম। এমনকি পরীক্ষা শেষে ওকে ডিফেন্সে পাঠানোর পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু পরীক্ষার কয়েকটি দিন বাকি থাকতেই এমন দুর্ঘটনা সব কেড়ে নিল।’

নাফিসার মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ববি বড়ুয়া জানান, নাফিসা অত্যন্ত ভদ্র, সাদামাটা ও প্রাণচঞ্চল একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন এবং কলেজের ‘অগ্রণী হাউসের’ দলনেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার স্মৃতিচারণ করে উপাধ্যক্ষ বলেন, ‘ওকে কাছ থেকে চেনার সুযোগ হয়েছিল, ওর সঙ্গে আমার এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছিল। এমন মেধাবী ও নম্র শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।’

বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয় এবং শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, শনিবারের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম জেলায় ১ হাজার ৬০৪ জনসহ মোট ২ হাজার ৪৩৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, যার মধ্যে নাফিসাও একজন। তিনি বলেন, ‘সকালে খবরটি শোনার পর আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। তাঁর জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।’

পুলিশ জানায়, নাফিসাকে ধাক্কা দেওয়া টোয়িং ট্রাকটি সাধারণত বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নাফিসার বাবা মামুন মিয়া বাদী হয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে আর পৌঁছানো হলো না তাঁর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন্দ্রে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মামুন মিয়ার একমাত্র মেয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবায় করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেয়েকে হারিয়ে তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কথাও বলতে পারছিলেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন স্বজনেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্লাসের একটা সমস্যা হওয়ায় একদিন নাফিসাকে তাঁর অফিসে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘ওকে না দেখে মনটা মানছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র ও প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিয়ে শেষ হবে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *