স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ইয়ারুন নাহার লাকী (৪৫) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন সবুজের স্ত্রী এবং আমরাইদ ইয়াকুব আলী শিকদার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাকীসহ পরিবারের সদস্যরা রফিকুল ইসলামের (৫০) মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে নাটোরের বড়াইগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে লাকীর ছোট বোন খাইরুন নাহার সম্পার স্বামী ছিলেন।
পথিমধ্যে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইয়ারুন নাহার লাকী ছাড়াও নুরুন নাহার লিপি, খাইরুন নাহার সম্পা, নূর আলম, আলতাফ হোসেন সবুজ, সিয়াম এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে লাকী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বজনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার শোকের যাত্রাই যে শেষ পর্যন্ত শিক্ষিকার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ ভাবেনি। দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে। শোকাবহ এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




















