চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদা বেগম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী গত বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাশেদা রেখে গেছেন সাড়ে চার বছর বয়সী বড় ছেলে আতেফ এবং মাত্র এক মাস বয়সী নবজাতক আদিয়ানকে। গত ৫ আগস্ট সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে রাশেদার জানাজা সম্পন্ন হয়। শোকাতুর স্বামী আমিরুল হোসাইন জানান, তিনি এবং তার মা নিজেও আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। রাশেদা প্রসবকালীন ধকলের কারণে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল ছিলেন, যার ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার ছিল না। কলেজশিক্ষক আমিরুল ও রাশেদা ২০২০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্মসূত্রে রাশেদা সন্দ্বীপে থাকলেও ছুটির দিনে চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ কাট্টলিতে স্বামীর ভাড়া বাসায় থাকতেন। আমিরুলের ধারণা, মশার উপদ্রব থাকা সেই এলাকা থেকেই রাশেদা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
স্ত্রীকে হারানোর শোকে বাকরুদ্ধ আমিরুল হোসাইন জানান, জানাজা ও দাফনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে আসেন, তবে দুই অবুঝ শিশুকে রেখে আসতে হয়েছে শহরের এক আত্মীয়ের বাসায়। মা যে আর কোনোদিন তাদের কাছে ফিরবেন না, তা বোঝার বয়স হয়নি শিশু দুটির। শোকাহত আমিরুল সরকারের কাছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আকুতি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন অকাল মৃত্যুর শোক সইতে না হয়।
রাশেদা বেগমের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাশেদার অকাল প্রয়াণ ও দুই শিশুর মাতৃহীন হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘরের এক কোণে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন আমিরুল হোসাইন (৩৮)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৫ আগস্ট সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের একমাস পর ডেঙ্গু কেড়ে নিল এই তরুণী মায়ের জীবন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পেশায় কলেজশিক্ষক আমীরুল এবং রাশেদা ২০২০ সালে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘরের ভেতর থেকে একটানা ভেসে আসছে স্বজনদের বুকফাটা হাহাকার।




















