ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামের সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু নাহিল প্রাণ হারিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার গ্রামের বাড়িতে। নাহিলের বাবা রাসেল আহমদ ২০১০ সালে ফ্রান্সে পাড়ি জমান এবং সেখানে ব্যবসা করেন। ২০১৯ সালে তিনি রাজশাহীর মেয়ে লিজা হককে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল নাহিল।
তিন মাস আগে নাহিল মা-বাবার সঙ্গে দেশে এসে ২৮ দিন গ্রামের বাড়িতে কাটিয়েছিল। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাহিলের চাচা ও পুকড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, শিশুটির সঙ্গে সেই দেখাই যে শেষ দেখা হবে, তা কেউ ভাবেনি।
ঘটনার দিন ৫ সেপ্টেম্বর সকালে লিজা প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার সময় নাহিলকে তার নানির কাছে রেখে যান। স্থানীয় প্রবাসী ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্যারিসের উত্তর শহরতলির ওভারভিলিয়ে শহরের একটি দোতলা ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়ে। ফরাসি দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল রাতভর অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে নাহিলের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় নাহিলের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন
- নাহিলের নানা এমদাদুল হক (৬৫)
- নানি সালমা হক (৫৫)
- দুই খালা রাহা হক (৩৫) ও ইয়ামা হক (১৮)
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাহিলের নানি ও দুই খালার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নাহিলের চাচা ফরিদ মিয়া জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নাহিলের মরদেহ ফ্রান্সেই দাফন করা হবে। বর্তমানে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। নাহিলের অকাল মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে, চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে জানত, সেটিই হবে আমাদের সঙ্গে তার শেষ দেখা!’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কথাগুলো বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামের ফরিদ মিয়ার (৪৫)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সাড়ে তিন বছরের ফুটফুটে ভাতিজা নাহিলের মুখ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিজা হকের (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবা ব্যবসার কাজে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতেন। চাকরির আরও তথ্য: মা লিজা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় তাঁকেও প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে যেতে হতো।




















