ভৈরবে স্বামীর পেনশন উত্তোলনের পর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ: তদন্তের দাবি পরিবারের - Mati News
Tuesday, September 8

ভৈরবে স্বামীর পেনশন উত্তোলনের পর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ: তদন্তের দাবি পরিবারের

কিশোরগঞ্জের ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন রেখে বিধবা হিসেবে পেনশনের টাকা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি আফসানার স্বামী আসাদ মিয়া মারা যান, যিনি একই কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সংসারে সাদিয়া নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত আসাদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামী মারা যাওয়ার পর আফসানা বিধবা ভাতার সুবিধা নিয়ে পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাগর আহমেদ উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে আফসানার স্বামী বলে দাবি করেছেন। সাগরের ভাষ্যমতে, আফসানা তাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলনে কোনো বাধার সম্মুখীন না হন। তবে এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আফসানা বেগম। তিনি এটিকে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আফসানার ভাই উজ্জ্বল মিয়া সাগরের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার অভিযোগ, সাগর তার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দ্রুত এই সম্পর্কের অবসান ঘটানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মৃত আসাদ মিয়ার ভাই কাউসার মাহমুদ জানান, তাদের মা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও পেনশনের কোনো অর্থ তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন রেখে পেনশন নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি বিধির লঙ্ঘন। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আসাদের মেয়ে সাদিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, আসাদ মিয়ার মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী তার স্ত্রী পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নলেজে ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি বিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে করলে পেনশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা যাচাই করা জরুরি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে আদালতই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবেন।

অভিযোগে সাগর আহমেদ উজ্জ্বলকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, স্থানীয় যুবলীগ নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই। তারা জানিয়েছেন, সাগরের কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না এবং যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে আফসানার দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা, পেনশন উত্তোলনের সময় দেওয়া তথ্যের সঠিকতা এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে পরস্পরবিরোধিতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা এবং পেনশনের টাকা উত্তোলনের সময় দেওয়া তথ্য-উপাত্ত এখন বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *