সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় উৎপাদিত পাটের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালায় পাটের আঁটি জাগ দেওয়া হচ্ছে, আর বাড়ির উঠান বা খোলা জায়গায় চলছে আঁশ শুকানোর কাজ। এই প্রক্রিয়াজাতকরণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল হক জানান, চলতি মৌসুমে রায়গঞ্জে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, বীজ বপন থেকে শুরু করে পাট কাটা ও আঁশ সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের এমন সহায়তা ও ভালো ফলনের কারণে আগামী মৌসুমে এই অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কৃষক হান্নান, খালেক ও দবির জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কৃষক মো. আব্দুল আজিজ ফেকু জানান, বাজারেও পাটের দাম বেশ সন্তোষজনক। বর্তমানে প্রতি মণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় গত মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
তবে পাট চাষে বীজ, সার, জমি প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি এবং পাট কাটা ও জাগ দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বড় অংকের ব্যয় হয়। বিশেষ করে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। তাই কৃষকদের দাবি, পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাট সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ ভবিষ্যতে আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় চাষিরা।




















