নওগাঁয় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের মুখে কৃষকেরা - Mati News
Saturday, October 3

নওগাঁয় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের মুখে কৃষকেরা

ধানের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ জেলায় এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মাঠভরা সোনালি ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে কৃষকদের। কারণ, বাজারে ধানের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে নওগাঁয় ৫১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৫৮ হাজার ৫৭৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। তবে ফলন বাড়লেও দামের পতনে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি একর জমিতে আউশ ধান উৎপাদনে গড়ে ৬৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে বিঘাপ্রতি খরচ পড়ে ২১ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারদরে প্রতি বিঘা জমি থেকে ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা।

নওগাঁর বিভিন্ন হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের প্রতি মণ ধান বর্তমানে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ ধানের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কম। অথচ সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দামই বেড়েছে। মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ ফলন হলেও বর্তমান বাজারে তা বিক্রি করে উৎপাদন খরচই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাজারে ধানের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সম্পর্কে ছাতড়া বাজারের আড়তদার শহিদুল ইসলাম জানান, গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে কাটারি ধান ৯০০ থেকে ৯৬০ টাকা, জিরাশাইল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ব্রি-২৮ জাতের ধান ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অনেক কৃষক পারিবারিক ঋণ ও জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন। এদিকে, ধানের দাম কমলেও স্থানীয় চালের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। চালকল মালিকদের দাবি, গত বোরো মৌসুমে ভালো ফলন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির ফলে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, অতিরিক্ত চাল আমদানির কারণে স্থানীয় ধানের চাহিদা কমে গেছে। এই প্রভাব আমন মৌসুমেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এতে আমন চাষিরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক ও ঋণের টাকা পরিশোধ ছাড়াও আরও নানা প্রয়োজন মেটাতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বুধবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১০ মণ জিরাশাইল ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কত দামে ধান বিক্রি করলেন, জানতে চাইলে মলিন মুখে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দাম শুনে আর কী হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পেপার-পত্রিকায় যতই লেখালেখি করেন না ক্যান, হামাগের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতি মণ ধান ৩০ টাকা ভ্যানভাড়া দিয়ে বাজারে আনছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধান বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে গেলে আরও ৩০ টাকা করে ভ্যানভাড়া দিতে হইতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই বাধ্য হয়ে প্রতি মণ ৮৮০ টাকায় ১০ মণ ধান বিক্রি করে দিছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সব মিলিয়ে তিন বিঘা জমি আবাদে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *