বগুড়ার শেরপুরে রহস্যে ঘেরা ‘জামুর ঢিবি’: খননের অপেক্ষায় প্রাচীন ইতিহাসের সন্ধানে - Mati News
Tuesday, September 15

বগুড়ার শেরপুরে রহস্যে ঘেরা ‘জামুর ঢিবি’: খননের অপেক্ষায় প্রাচীন ইতিহাসের সন্ধানে

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুসুম্বি ইউনিয়নের আদম জামুর গ্রাম। এই গ্রামের পাশেই সবুজে ঘেরা বিশাল এক ঢিবি দাঁড়িয়ে আছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘জামুর ঢিবি’ বা ‘ধনপোতা ঢিবি’ নামে পরিচিত। খেজুর, বরই ও পিতরাজ গাছসহ নানা গাছপালায় ঢাকা এই শান্ত ঢিবিটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ মনে করেন মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে প্রাচীন কোনো রাজবাড়ি, আবার কারও মতে এটি কোনো প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা বা জনপদের ধ্বংসাবশেষ।

গত ৩১ আগস্ট সরেজমিনে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে বেশ উঁচু এই ঢিবিটির উচ্চতা বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট এবং এর আয়তন প্রায় দুই থেকে আড়াই একর। স্থানীয় ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মমতাজ আলী প্রামাণিকের ভাষ্যমতে, ছোটবেলায় তিনি ঢিবিটিকে এখনকার চেয়ে অনেক বেশি উঁচু দেখেছেন। সময়ের বিবর্তনে এটি ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। অতীতে স্থানীয়রা ঢিবির মাটি কেটে পুরোনো ইটের টুকরা সংগ্রহ করে ঘরবাড়ির কাজে ব্যবহার করতেন, যার ফলে ঢিবির মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানেও ঢিবির নিচের অংশে মাটি কাটার দাগ এবং পুরোনো ইট ও মাটির তৈজসপত্রের টুকরা চোখে পড়ে।

জামুর ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, বগুড়া অঞ্চল প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ হওয়ায় এখানে প্রাচীন স্থাপনার অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। কুসুম্বি ইসলামিয়া কলেজের ইসলামের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক মো. সুজাউদ্দৌলাও মনে করেন, ঢিবিটি নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো যাচাই করতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও খনন কাজ জরুরি। এ বিষয়ে কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম ঢিবিটি সরকারিভাবে খনন ও সংরক্ষণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি ঢিবিটি পরিদর্শন করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান জানান, এত বড় ঢিবি সচরাচর দেখা যায় না। তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গে বর্তমানে ১৬১টি ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষিত আছে, যার মধ্যে জামুর ঢিবি অন্যতম। ২০১৫-১৬ সালের দিকে ঢিবিটি সরকারিভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে খননের বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা না থাকায় ঢিবিটি দিনের বেশির ভাগ সময় নিস্তব্ধ পড়ে থাকে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হলে মাটির নিচের এই স্তর থেকে হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে অজানা কোনো ইতিহাস, যা শেরপুরের ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবুজ ফসলের মাঠে জেগে আছে বিশাল এক ঢিবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই শান্ত ঢিবি ঘিরেই স্থানীয় মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের শেরপুর পৌরসভার নন্দীগ্রাম সড়ক মোড় অথবা কলেজ রোড থেকে কুসুম্বি ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া বাজারে যাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢিবির ওপর ও চারপাশে নানা ধরনের গাছপালা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এই সবুজের আড়ালেই আছে ক্ষয়ের চিহ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢিবির নিচের অংশের মাটি কেটে আশপাশের জমি চাষাবাদের উপযোগী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর বাবা-দাদারাও এই ঢিবির কথা জানতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *