গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থী বাসের সিটে ময়লা পরিষ্কার নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বন প্রহরীদের হামলায় নারীসহ ৮ দর্শনার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দুপুরে পার্কের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের সামনে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বারিধারা (নতুন বাজার) এলাকার বাসিন্দা সালমা হোসেন (৪৫), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫), তাদের গাড়ির চালক রাসেল (২৫), এছাড়া মানিক মিয়া (৩৭), আরমান (৪৫), দোয়েল হক (৩৫) ও আশিক (৩৫)। ভুক্তভোগী সালমা হোসেন জানান, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি তার দুই ছেলেকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে যান। কোর সাফারির বাসে উঠে সিটে ময়লা দেখে প্রহরী ফরহাদকে তা পরিষ্কার করতে বললে তিনি দায়িত্ব অস্বীকার করে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বাসটি পার্কের সহকারী বন সংরক্ষকের অফিসের নিচে নিয়ে গেলে ফরহাদ ও তার সহকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তার তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, বাসের সিটের ময়লা পরিষ্কার নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে পার্কের দুজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, মুমিন নামে তাদের এক স্টাফ আহত হয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। পর্যটকদের আলোচনার জন্য অফিসে আনার পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহরী ফরহাদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যার পর মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রাতে পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে গেলে প্রহরী ফরহাদসহ তার অন্যান্য সহকর্মীরা আমার দুই ছেলে ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রাসেলকে মারধর শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসময় নারী দর্শনার্থীর ছেলের সঙ্গে প্রহরীর হাতাহাতি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য।




















