ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ৮৭ দিন: সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সমীকরণ - Mati News
Tuesday, September 8

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ৮৭ দিন: সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সমীকরণ

ঢাকায় ৮৭ দিন দায়িত্ব পালনের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এমন ধারণা তিনি মানতে নারাজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, দিল্লি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত এবং এই সফর যেন কেবল গতানুগতিক কূটনৈতিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেই তাদের মনোযোগ। তিনি মনে করেন, এই সফর নিয়ে অহেতুক বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।

ঢাকায় নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এখানকার মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ এবং তিনি এখানকার পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে দ্রুতই মিশে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ যাদের সঙ্গেই তার কথা হয়েছে, তাদের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি বা সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। কোনো পক্ষই আলোচনার পথ বন্ধ করতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন নিরসনে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় বার্তা ছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি যোগ দিয়ে সম্পর্কের নতুন সংকেত দেন। এরপরই নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য থাকা এই কূটনীতিক নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তার এই নিয়োগের পেছনে ভারতের বিশেষ কোনো কৌশল থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রিকস আউটরিচ সেশন ও দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে কিছুটা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দাওয়াতপত্রে প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না থাকায় ঢাকা আপত্তি জানালেও, ভারত দাবি করেছে যে তাদের পক্ষ থেকে যথাযথভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি না হলেও, ওসমান হাদির দুই হত্যাকারীকে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। বর্তমানে বল দিল্লির কোর্টে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই দেশই সম্পর্ক উষ্ণ করতে আগ্রহী হলেও, মাঝখানের অদৃশ্য দেয়াল ভাঙাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা তো মুখিয়ে আছি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূটনীতির মারপ্যাঁচে কিছু সময় হারিয়ে গেল তার খোলামেলা বয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চালচলন, আচার, আচরণেও মেলা মিল খুঁজে পাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও যাদের সঙ্গে কথা বলেছি— এতে আমি অভিভূত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সময়ের মধ্যেই আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই এসবের সুরাহা হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দু’দেশের সম্পর্কে আগে থেকেই টানাপড়েন চলছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *