ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরাম শুরু, এমওইউ স্বাক্ষর - Mati News
Monday, August 3

ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরাম শুরু, এমওইউ স্বাক্ষর

আফরিন মিম

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং নীতি সংলাপকে আরও শক্তিশালী করতে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরাম ‘কম্পারেটিভ গভর্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬’। সোমবারবিআইআইএসএস মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং চীনের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (এসআইআরপিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছেন চিমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতা এবং শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে বিআইআইএসএস মহাপরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং নীতি-ভিত্তিক সংলাপ সম্প্রসারণে বিআইআইএসএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছেন চিমিন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন একাডেমিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন এবং জননীতি খাতে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিআইআইএসএস ও ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে গবেষণা, একাডেমিক বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ প্রকাশনা এবং নীতি সংলাপে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলো।

৩ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলা এ ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন অধিবেশনে চীনের শাসনব্যবস্থা, লক্ষ্যভিত্তিক দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জাতীয় শাসনব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), শিল্পায়ন, ২০৩০-পরবর্তী যৌথ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

আয়োজকদের মতে, এই ফোরাম দুই দেশের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা, তুলনামূলক নীতি শিক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *