সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের - Mati News
Friday, November 6

সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, সিএমজি বাংলা: চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলন। তিনি সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি), মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’-এ সেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ঝড়, বৃষ্টি কিংবা রোদ— চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলছে।‘ তিনি চীনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উদাহরণ টেনে উল্লেখ করেন, কীভাবে বিশাল জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করে দেশটি আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যাও দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ এবং বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে মন্ত্রী ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমুদ্র-ভিত্তিক সম্পদ অন্বেষণের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মক্ষম উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিক লক্ষ্য জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা, যাতে শিল্প ও অ্যাকাডেমিক খাতের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে উন্নত প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয়। সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দেশটির পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আদলে বাংলাদেশেও শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। উপরিভাগের দেশগুলোর আগাম তথ্য প্রদান ছাড়াই কীভাবে স্যাটেলাইট ও নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্লাবন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনা জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, শিক্ষাই পারে দুটি দেশের বন্ধুত্বের সেতুকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে। চীন সরকার সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *